Translate

সিরাজগঞ্জে ৩ বন্ধুর প্রতিশোধে বলি কিশোর মনির



শিশুবার্তা প্রতিবেদকঃ
পূর্ববর্তী দ্বন্দ্বের জেরে তিন বন্ধু মিলে ছুরিকাঘাতে খুন করে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কান্দাপাড়ার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালক মনির তালুকদারকে। মাস ছয়েক আগে হালিম খাওয়ার সময় মারপিটের ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই খুন করা হয় তাকে।
ঘটনার মাত্র ৩ দিনের মধ্যেই খুনের মোটিভ উদঘাটনসহ ৩ অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে সিরাজগঞ্জ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআই ও সদর থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলো, পাশ্ববর্তী আরিয়া মোহন গ্রামের আব্দুল মালেকের ছেলে কামিরুল ইসলাম (১২), বছির আলীর ছেলে নাজমুল ইসলাম (১৫) ও আব্দুল বাছেদের ছেলে সোহাগ হোসেন (২২)।
কামিরুলকে মারপিটের প্রতিশোধ নিতে বন্ধুরা খুন করে মনিরকে।বৃহস্পতিবার (২২ নভেম্বর) কামিরুল ও নাজমুল ৪৭ ধারায় মুখ্য বিচারকি হাকিম আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
কারা তত্ত্বাবধায়ক আল মামুন জানান, আদালতের নির্দেশে রাতে সোহাগকে জেলা কারাগারে এবং নাজমুল ও কামিরুলকে শুক্রবার (২৩ নভেম্বর) সকালে টঙ্গী জেলার কিশোর সংশোধনী কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে ।
এদিকে, পূর্ববর্তী প্রতিহিংসার কারণে গত ১৮ নভেম্বর সন্ধায় অপরাধীরা যাত্রীবেশে অটোরিকশা ভাড়া করে। এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে সদরের হরিপুর গ্রামের নির্জন স্থানে নিয়ে মনিরকে ছুরিকাঘাত করে অটোরিকশা ফেলে পালিয়ে যায় তারা। পরে স্থানীয়রা মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মনির মারা যায় । ঘটনার রাতে সদর থানায় মামলা করেন তার বাবা নজরুল তালুকদার।
অন্যদিকে, খুনের ঘটনায় সদর থানায় মামলা হলেও উর্ধ্বতনের নির্দেশে তদন্ত করেছে পিবিআই। ছুরিকাঘাতের সময় সহযোগীদের চাকুর আঘাতে বাম হাতের তালু কেটে ফেলেন কামিরুল। পিবিআই পুলিশের চৌকস ইন্সপেক্টর রওশন আলী ওই সূত্র ধরে গত ৩ দিন ধরে নিরলশ পরিশ্রম করে কামিরুল ও সোহাগকে গ্রেফতার করেন। হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকুও উদ্ধার করেন তিনি।
সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম আরেক অপরাধী নাজমুলকে তার বাবা-মার প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় থানা হেফাজতে নেন। সমাজ সেবা কমকর্তা হাসান শরীফের কাছে কামিরুল ও নাজমুল এবং মুখ্য বিচারকি হাকিম আহসান হাবিবের নিকট সোহাগ বৃহস্পতিবার বিকেলে ঘটনার জবানবন্দি দেন।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য