Translate

জিপিএ-৫ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাই গুণগত শিক্ষার প্রধান অন্তরায়

কোনো কিছু অর্জন করার ইচ্ছাই হচ্ছে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা।এই আকাঙ্ক্ষা যখন ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয় তখন সে বিষয়টি নেতিবাচক রুপ লাভ করে । 

আমরা যখন দেখি কেউ জিপিএ-৫ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস করে কিংবা আত্মহত্যা করে।তখন বিষয়টি আকাঙ্ক্ষার নেতিবাচক রূপলাভ করে।

বিখ্যাত দার্শনিক এরিস্টটল বলেন, সুস্থ দেহে সুন্দর মন তৈরি করাই হচ্ছে শিক্ষা। এডুকেশন ফর গ্লোবাল মনিটরিং সিস্টেম-২০০৫ অনুযায়ী গুনগত শিক্ষা বলতে বুঝায়, শিক্ষার্থীদের মাঝে মুল্যবোধ জাগ্রতকরণ, জ্ঞাণগত উন্নয়ন ও অন্তর্নিহিত প্রতিভার বিকাশই হচ্ছে গুনগত শিক্ষা।জীবনমুখী শিক্ষা ও বৃত্তিমুলক শিক্ষাও এ শিক্ষার অন্তর্ভুক্ত।

মুলত বাংলাদেশের শিক্ষার্থী এবং অবিভাবকদের মাঝে জিপিএ-৫ পাওয়ার যে নেতিবাচক অভিপ্রায় দেখা যায় তাই-ই মূলত গুণগত শিক্ষার প্রধান অন্তরায়। 

জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য যে নেতিবাচক আগ্রহ দেখা যায়, তার ফলশ্রুতিতে- 
০১)প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়।
০২)মেধার বিকাশ সঠিকভাবে হয় না।
০৩)শিক্ষার্থীরা সহপাঠ্যমুলোক কার্যক্রমে অংশক্রহন করতে পারে না। 
০৪)এমনকি জিপিএ-৫ না পেয়ে বাধ্য হয়ে আত্নহত্যার পথও বেছে নেয় তারা । 
*গভীরভাবে ‌পর্যবেক্ষণ করলে এরকম আরো অনেক বিষয় পাওয়া যাবে। 

তাই পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থী, অবিভাবক, এমনকি শিক্ষকরা পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের মত জঘন্য কাজ করতেও লজ্জাবোধ করে না। 

শিক্ষার মুল উদ্দেশ্য হলো নৈতিক শিক্ষা। কিন্তু, এই শিক্ষার জন্য তারা এসকল অবৈধ পন্থা অবলম্বন করছে। তাহলে এই শিক্ষা অর্জন করে লাভ কি?

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টি.আই.বি) এর একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১২-২০১৫ সালে এ পর্যন্ত শুধুমাত্র JSC এবং PSC তে ৬৩ টি প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়েছে। 

এই জিপিএ-৫ পাওয়ার জন্য যখন মাত্র ৫ম শ্রেনীতে পড়ুয়া একজন শিশু এবং তার অবিভাবক প্রশ্নফাসেঁর মতো জঘন্য অপরাধের আশ্রয় নিচ্ছে। শিক্ষা অর্জন করে যদি নৈতিকতার বিকাশ নাই হয়।তাহলে এই শিক্ষা অর্জন করে লাভ কী?
-সম্পাদক
২৫/১২/২০১৮

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য