Translate

ছুটির দিনে রাজশাহী কলেজ যেন এক মিলনমেলা

মুহাম্মাদ শরিফুজ্জামান, শিশুবার্তা প্রতিনিধি, রাজশাহীঃ

নগরীর প্রাণকেন্দ্র সাহেব বাজার মনিচত্ত্বর সংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে আছে রাজশাহী কলেজ। কলেজটির প্রবেশদ্বারে দু'জন সিকিউরিটি গার্ডসহ রয়েছে একজন পুলিশ কনস্টেবল। রাজশাহী কলেজের মনোরম পরিবেশ সবাইকে মুগ্ধ করে। অর্থনীতি, সমাজকর্ম ও ইতিহাস বিভাগের সামনে থাকা পুকুরের ধারটা সবার কাছে প্রিয়। রাজশাহী কলেজের সৌন্দর্য লুকিয়ে আছে আনাচেকানাচে লাগানো ফুলের গাছে। আহা, ফুলের গন্ধে যেন প্রাণ জুড়িয়ে যায়! প্রিন্সিপাল জনাব হবিবুর রহমান হলেন সৌন্দর্যের পূজারি। কলেজ অপরিচ্ছন্ন থাকুক, এটা তিনি একেবারেই পছন্দ করেন না।


কলেজে ঢুকতেই চোখে পড়ল প্রকাণ্ড মাঠ। কেউ খেলছে ক্রিকেট, কেউ খেলছে ফুটবল। দুজন দম্পতিকে ব্যাডমিন্টন খেলতে দেখা গেল। সবাই খেলছে আপন মনে, দলে দলে বিভক্ত হয়ে। মাঠের এক বড় অংশে কেউ খেলছে না। আসলে খেলতে পারছে না। কেননা আজ শুক্রবার এখানে অনুষ্ঠিত হয়েছে 'ম্যাথ অলিম্পিয়াড' এর বিভাগীয় পর্ব। উৎসব শেষ বটে, তবে মঞ্চ খোলার কাজে ব্যস্ত আছেন দু'ডজন শ্রমিক।


ছুটির দিনে সব বয়সী লোকজন ঘুরতে আসেন রাজশাহী কলেজে। ছুটির দিনগুলোতে রাজশাহী কলেজটা পরিণত হয় এক মিলনমেলায়।


গণিত বিভাগের সামনে দেখা মিলল এক বৃদ্ধ দম্পতির। তাঁদের এখানে আসার কারণ জানতে চাইলে তাঁরা শিশুবার্তাকে জানান, 'আজ আমাদের বিয়ের অর্ধশত বছর পূর্ণ হয়েছে। তাই দাম্পত্য জীবনের সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করতেই এখানে আসা।'তাঁরা আরও বলেন, 'পরিবেশটা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। আনাচেকানাচে লাগানো ফুলের গাছ এই কলেজের সৌন্দর্যটাকে প্রস্ফুটিত করেছে।'


দেখতে দেখতে সন্ধ্যে হয়ে এলো। মাইকে ভেসে উঠল সুমধুর কণ্ঠে মুয়াজ্জিনের আজান। তারই সঙ্গে শোনা গেলো সিকিউরিটি গার্ডের হুইশেলের শব্দ। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, এখন সবাইকে চলে যেতে হবে। নিরাপত্তার খাতিরে সন্ধ্যের পরপরই বন্ধ করে দেওয়া হয় রাজশাহী কলেজ।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ