Translate

বৈষম্য শুধু নারীদের ক্ষেত্রেই কেন?


প্রিয়াংকা ভদ্র

শিশু সরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

বাংলাদেশ জাতীয় শিশু সংসদ, সিরাজগঞ্জ প্রদেশ। 

শিক্ষার্থীঃ সালেহা ইসহাক সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সিরাজগঞ্জ।

 

মাদের এই সমাজে আমরা অনেক ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের জীবনের প্রথম ধাপ হচ্ছে পরিবার। মা-বাবা, ভাই-বোন এছাড়া আরো অনেককে নিয়ে আমাদের এই পরিবার গঠিত হয়। আমাদের সীমাবদ্ধতা শুধু পরিবারের মধ্যেই আবদ্ধ নয়। এর সীমানা বহুদূর। সবারই অধিকার আছে মুক্ত হাওয়ার স্বাধীনভাবে চলার।


কিন্তু অনেকে এ ধরনের স্বাধীনতা ভোগ করতে পারছে না, যাদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। আমাদের সমাজের অবস্থারও প্রায় পরিবর্তন এসেছে। কিন্তু এখনও আমাদের চিন্তা ভাবনায় অনেক কিছুর অভাব রয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নারীদের প্রতি বৈষম্যতা। অনেক আগে থেকেই এ ধরণের বৈষম্যতা চালু আছে।


কাউকে যদি প্রশ্ন করা যায় ঐ মেয়েটির দোষ কোথায় অনেক ক্ষেত্রে জবাব আসে কারণ সে মেয়ে, কিন্তু যদি তাকেই আবার প্রশ্ন করা যায় যে মেয়েদের দোষ কোথায় তাহলে এর জবাব কি হবে। যদি এক মুহূর্তের জন্য ভাবা যাক এইসব বৈষম্যের মূল কারণ কি? তাহলে অনেকে অনেক ধরনের কথা বলতে পারে।


আমার মতে এর মূল কারণ হচ্ছে যৌতুক, বাল্যবিবাহ, শিক্ষার অভাব, সমাজ ব্যবস্থা এবং যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রথা ইত্যাদি। যদি কাউকে বলা যায় যে আমরা এসব কুসংস্কারের কুপ্রভাব জানা শর্তেও এধরনের প্রথা কেন পুরোপুরি বন্ধ করতে পারছি না? তাহলে এর উত্তর কি হবে। এধরনের সমস্যার শিকার হচ্ছে নির্দোষ নারীরা। শুধু তাই নয় দারিদ্রতা তাদের উন্নতির পথে বাঁধা সৃষ্টি করছে যার ফলে আমাদের সমাজ এখনও পিছিয়ে রয়েছে।


যেসব দেশে শিক্ষার হার বেশি তারা তাদের দেশকে খুব সহজেই এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছে। বাংলাদেশেও শিক্ষার হার বাড়ানোর জন্য সকলকে শিক্ষার সুযোগ করে দিচ্ছে বিশেষ করে মেয়েদের। এছাড়াও বিভিন্ন ধরনের সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে তাদের। তবুও অনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা এসব অধিকার ভোগ করার সুযোগ পাচ্ছে না। আমার ধারনা এধরনের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার জন্য শুধুমাত্র একটু ভাল চিন্তা ভাবনার প্রয়োজন। অনেক মেয়ে সুযোগের অভাবে তার প্রতিভা বিকাশিত করতে পারছে না।


যদিও এই সমাজের পরিবর্তনের পিছনে নারী ও পুরুষের সমান হাত রয়েছে তবুও সবক্ষেত্রে এখনও পুরুষদেরকেই প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। সবাই যেহেতু মানুষ সেহেতু সবার অধিকার সমান। কেন মেয়েরা পিছিয়ে থাকবে? বর্তমানে এ ধরনের সমস্যার হার অনেক কমেছে তবুও এই সমস্যা এখনও পুরোপুরি ভাবে নির্মূল হয়নি। যেদিন এই ধরনের সমস্যা পুরোপুরি নির্মূল হবে সেদিন সমাজ পুরোপুরিভাবে আলোকিত হবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ