Translate

লেখাপড়ার খরচ চালাতে ছুটির দিনে ইট ভাটায় শিশু শ্রমীক বাদল

এস. এম. মানজুরুল ইসলাম সাজিদ , শিশু বার্তা প্রতিনিধি ,বাগেরহাট;
১২ বছর বয়সি বাদল মোল্লা শান্ত। ইট বালু গোলায় কাজ করে থেমে নেই লেখাপড়া। হাল ধরেছে সংসা্রের
ও। জীবনের কাছে অদম্য এই ছোট্ট শিশু। বাগেরহাট বহুমুখী কলেজিয়েট স্কুলের ষষ্ঠ শ্রেনির ছাত্র।বাদল শান্তশিষ্ট, ক্লাসে এ মনযোগি,নিয়মীত ও মেধাবী ছাএ।এসব গুন থাকার পরও অসহায় বাদল ।কারন তার পরিবার লেখপড়ার খরচ চালাতে অক্ষম।

তাই তিনি লেখপড়ার পাশাপাশি কাজ করেন ইট বালুর গোলায়। সপ্তাহের সাত দিনের, ছয় দিন যান বিদ্যালয়ে এবং সপ্তাহের ছুটির দিন শুক্রবার লেখপড়ার খরচ চালাতে কাজ করে।যেসময় টা বিশ্রাম নেওয়ার কথা কথা সেই সময় লেখপড়ার খরচ যোগাতে বাধ্য হয়ে কাজ করেন ইট বালুর গোলায় । দিন শেষে কাজ করে পরিশ্রান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফিরে করেন পড়ালেখাও।

 শুক্রবার কাজ করে আয় করেন ১০০ থেকে ১৫০ টাকা।এই দিয়েই চালাতে হয় সপ্তাহের খরচ।তার মা বিলকিস বেগম একজন গৃহকর্মী,বাবা বাদশাহ মোল্লা থাকেন যশোরে,নেন না তাদের কোনো খোজঁ খবর ও। সে এবং তার মা বিলকিস বেগম আয় করা টাকা দিয়েই চলছে বাদলের ছোট বোন সুরাইয়া ও বাদলের লেখাপড়ার খরচ এবং তাদের ছোট্ট সোনার সংসার।

বোন সুরাইয়া , হাজী আরিফ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪ র্থ শ্রেনির ছাএী। বাদলের জীবন সমাজের অন্যদের মত না। তবে চোখে বড় হওয়ার ইচ্ছা। তাই তিনি লেখাপড়া চালিয়ে যেতে চান।! প্রাথমিক শেষ করে পা দিয়েছেন মাধ্যমিকে অভাবের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। এরপরও রয়েছে লেখাপড়ার খরচ। তবুও হাল ছাড়বে না সে।

মানবতা আজ নিরবে কাদেঁ। বাদল বলেন"আমি বড় হয়ে ইন্জিনিয়ার হতে চাই। ইন্জিনিয়ার হয়ে দেশের সেবা করতে চাই,আর আমার জন্য দোয়া করবেন আমি যেনো ভালো মানুষের পাশাপাশি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে দেশের সেবা করতে পারি।

বাদলের মা বিলকিস বেগম বলেন"আমার ছেলে বাদল,ওর লেখপড়া করার খুব ইচ্ছা, আমি লেখাপড়া খরচ দিতে পারি না,তারপর নিজে কাজ করে পড়ালেখার খরচ চালায়। দোয়া করবেন বাদল যেনো স্বপ্ন পূরন করতে পারে"

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য