Translate

ঋতুরঙ্গময়ী “শরৎ”



সাকলাইন শিহাব, সিরাজগঞ্জ:
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ।ছয়টি ঋতুর মাঝে সবার পছন্দের একটি ঋতুর নাম হলো শরৎ। যা বাংলার ছয় ঋতুর তৃতীয় টি।ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে এই ঋতু বাংলার প্রকৃতিতে আগমন করে।আর এই ঋতুকে বলা হয় ঋতুরঙ্গময়ী রুপসী ঋতু। শরৎকাল বাংলাদেশের কোমল স্রিগ্ধ এক ঋতুর নাম।

শরৎ ঋতুতে বাংলায় দেখা যায় কিছু স্বতন্ত্র বৈশিষ্ঠ্য। ভাদ্রের চোখে সূর্য মিষ্টি হাসি স্পর্শ নিয়ে বাংলার প্রকৃতিকে কানে কানে ঘোষনা করে শরতের আগমন বার্তা।শরতের সৌন্দর্য বাংলার প্রকৃতিকে করে তোলে আরো রূপময়। পাখপাখালির দল মহাকলরবে ডানা মেলে উড়ে যায় ওই নীল আকাশে। শিমুল তুলোর মতো ভেসে চলে সাদা মেঘের খেয়া। শরতের ভোরের ওই সুরভিত বাতাস আমাদের মনে জাগিয়ে দেয় আনন্দের বন্যা।

তাই গ্রাম বাংলার কিশোর-কিশোরীরা খুব ভোরে ছুটে যায় শিউলি গাছের তলায়।সূর্য ওঠে সোনার বরন রুপ নিয়ে।নির্মল আলোয় ভরে যায় বাংলার চারদিক। নদীর তীরে কাশবনের সাদা কাশফুল কখনো হাতছানি দিয়ে থাকে আমাদের। কাশফুলের মনোরম দৃশ্য থেকে সত্যিই চোখে ফেরানো যায় না। ফসলের খেতে অমিত সম্ভাবনা কৃষকের চোখে দেখায় নতুন এক স্বপ্ন।স্বপ্নের সেই সবুজ ধানখেতের দিকে চেয়ে থাকে বাঙ্গালী কৃষক।

গ্রামের বিল গুলোতে দেখা যায় নক্ষের মতো ফুটে থাকা শাপলা।প্রকৃতির এই অপরুপ যেন বাংলার মানুষের মনে দেখায় নতুন কিছুর।হয়তো সবার ইচ্ছে হয় গৌধুলির ওপারে হারিয়ে যেতে।শরতের উৎসবে সেজে ওঠে শস্যময়ী বাংলা।জলে,স্থলে আর গগনে গগনে সব জায়গায় লেগে থাকে শরতের উৎসবের আমেজ।শরৎ যেমন আমাদের কে উৎসবের আনন্দে দিয়ে থাকে তেমন বিসর্জনের ভেলায় কাদিয়ে বিদায় গ্রহন করে।শরতের চলার পথে পড়ে থাকে অজস্র মুঞ্জুরী।সেগুলো ছেড়ে চলে যেতে হয় শরৎ কে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য