Translate

কংক্রিটের শহরে খেলতে পারুক সকল শিশু


মাহীব রেজা,শিশু বার্তা প্রতিনিধি,ঢাকাঃ
রাজধানী ঢাকায় পর্যাপ্ত মাঠের অভাবে খেলাধুলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শিশুরা। গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে মাঠের সংখ্যা। ক্রমবর্ধমান নগরায়নের বলি হয়েছে শিশুদের খেলার জায়গা।

একটা সময় ছিলো যখন প্রায়ই দেখা যেতো শিশুরা হইহল্লা করে সবুজ মাঠে ছুটছে। এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করা এখন প্রায়ই দুরূহ। একান্ত আমাদের যেসব খেলা আছে-গুলি ডান্ডা, কাবাডি, বৌছি ইত্যাদির নামই বলতে পারে না শহুরে শিশুরা। সারাদিন পড়াশোনা-কোচিং এর শেষে খেলবার ফুসরত কই? সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে খেলার সময় পেলেও খেলার উপযোগী মাঠের অভাবে তাও সেভাবে হয়ে উঠছে না। এর উপর আধুনিক যুগের প্রযুক্তি শিশুর মনোযোগ কাড়ছে, শিশুরা এখন ঘরে বসেই দীর্ঘক্ষণ ভিডিও গেম খেলে কাটিয়ে দিচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা শিশুর মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। শিশু বন্ধু বানাতে শেখে। দায়িত্বশীলতা অর্জন করে। চাপ মোকাবেলা ও সিদ্ধান্তগ্রহণের গুনাবলীর পাশাপাশি শিশু নিয়মানুবর্তিতা, শৃঙ্খলা, সময়ের সদ্ব্যবহারের মতো ভারী ভারী বিষয়গুলো অনায়াসেই আস্তস্থ করতে পারে। এছাড়াও পেশি গঠনে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

কিছু সময় আগে রাজধানীতে সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে কিছু পার্ক নির্মাণ করা হয়েছে। নির্ধারিত মাঠ  নির্দিষ্ট করে দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা অজানা কারনে থমকে আছে। শেরে বাংলা নগরে জাতীয় সংসদ ভবনের পাশে শিশু ও প্রতিবন্ধিদের জন্য একটি মাঠ নির্দিষ্ট করা আছে। কিন্তু অবাক বিষয়, সে মাঠে কখনো প্রতিবন্ধি বা শিশুদের খেলতে দেখা যায় না। মাঠের অবকাঠামো নষ্ট হয়েছে। খানা খন্দ তৈরি হয়েছে।

এছাড়া যারা সুবিধাবঞ্চিত শিশু তাদের খেলাধুলার সুযোগ তৈরিতে সেরকম কোনো আগ্রহ দেখা যায় না। সরকারি আবাসিক এলাকার হাতেগোনা মাঠগুলোতে তাদের প্রবেশের অধিকার নেই।

শিশুর জন্য খেলাধুলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কংক্রিটের এই শহরে, বড় বড় দালানের ভীড়ে ওদের জন্য একটু খেলার জায়গা বের করা দুরূহ কিছু না। ওরা খেলুক, নিজেদের শৈশবকে উপভোগ করুক নিজেদের মতো করে।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্য