Translate

দুঃস্থ অসহায় পরিবার পেল ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের ঈদ উপহার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে করোনায় কর্মহীন ও অসহায় অর্ধশতাধিকের অধিক পরিবারদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। 

গত ১০ মে থেকে ১২ মে পর্যন্ত ৩ দিন ব্যাপী দেশের একাধিক জেলায় এই অর্ধশাতাধিকের বেশি পরিবারের হাতে মাসিক বাজার করে খাদ্য সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এই কার্যক্রম ঢাকা, সিরাজগঞ্জসহ  দেশের একাধিক জেলায়  অনুষ্ঠিত হয় "করোনা ক্ষতিগ্রস্তদের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াই" ইভেন্ট। 

স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রায় অর্ধশতাধিক পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ করে "ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন"। এছাড়াও তাদের মধ্যে করোনা সচেতনতামূলক জ্ঞান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হয়। 

বুধবার (১২ মে) ঢাকার মিরপুরে বিভিন্ন স্থানে করোনায় কর্মহীন ও অসহায় মানুষের মাঝে উপহার হিসেবে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় বাজার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, মুরগির মাংস, মসলা, আলু, চিনি, লবণ, তেল, সেমাই, গুঁড়া দুধ, সাবান, ডিটারজেন্ট সহ অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী দিয়ে প্যাক করে মাসিক বাজার করে উপহার দেয়। 

বিভিন্ন জেলায় এসকল কার্যক্রমের পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট কোশিক কুমার গুহ, সাধারণ সদস্য সুমাইয়া আলম অর্পি ও দীপংকর ভদ্র দীপ্ত। এছাড়াও স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে সাদ বিন মাসুদ, শেখ মেহেদী, সাব্বির খন্দকার সাহেব, তারেক আহমেদ, শিশির রহমান সহ অন্যান্যরা। 

প্রসঙ্গত, গত ২১ শে ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠিত হয় ওয়াইএনএফ ফাউন্ডেশনটি। "উই ফর চেইঞ্জ" এই স্লোগানকে সামনে রেখে দুঃস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে সম্ভাবনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সংগঠনটি রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের কার্যক্রম চলাচ্ছে। 

এবার অল্প পরিসরে ঈদ উদযাপন সামগ্রী বিনিময়ের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগ করে নিলো ওয়াইএনএফ। ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন সমাজের দায়বদ্ধতা থেকে বিভিন্ন সমাজ সেবামূলক কর্মকান্ড করে থাকে। 

ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও প্রেসিডেন্ট কৌশিক কুমার গুহ জানান, “আমরা সমাজের পিছিয়ে পড়া অসহায়, দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, সেই সাথে তাদেরকে সহযোগিতার মাধ্যমে তাদের বিকশিত করতে  নিরলসভাবে কাজ করছে আমাদের এই ফাউন্ডেশন। এজন্য গত কয়েক মাসে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা বেশ কয়েকটি ইভেন্ট করেছি যেনো আমরা মানুষদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের সাহায্য করতে পারি আর ভবিষ্যতে সুবিধাবঞ্চিত  শিশুদের নিয়ে “ফ্রাইডে স্কুল” প্রজেক্ট এর মাধ্যমে পাঠদান, খাবার বিতরণ ও খেলাধুলার মাধ্যমে এসব শিশুদের আগামী দিনের জন্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছি আমরা। এজন্য প্রয়োজন সকলের একনিষ্ঠ ভাবে এগিয়ে আসা ও বিত্তবানদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া।” 

ফাউন্ডেশনের অন্য আরেক সদস্য মাইশা অদিতি ফারজানা জানান, "ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সব সময় সঙ্কটময় মুহূর্তে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ ও পাশে থাকার চেষ্টা করে সর্বদা।  ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন নিজেদের উদ্যোগে ও সামর্থবানদের সহযোগিতায় অসহায় পরিবারদের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণের কর্মসূচি চলছে। দেশের বিত্তবানদের আহ্বান করবো, তারাও যেন ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশনের দান তহবিলে সাহায্য করতে এগিয়ে আসেন ও সকলের মুখে হাসি ফোটাতে সাহায্য করেন।আমাদের এই ইভেন্টটি আরো বড় আকারে করার ইচ্ছে ছিলো কিন্তু করোনা ও লকডাউনের জন্য স্বল্পপরিসরে করতে হলো। সকলের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এভাবেই আমরা এগিয়ে যাবো এই প্রত্যয় করছি।" 

আরেক সদস্য দীপংকর ভদ্র দীপ্ত বলেন, "আমরা মূলত যারা প্রকৃত অসহায় মানুষ তাদের বাছাই করে আমারা তাদের বাজার করে দেয়। এমনও মানুষ পেয়েছি যে কিনা পান্তা চিনি দিয়ে খেয়ে সেহেরি করে রোজা রাখে এবং পানি দিয়ে ইফতার করে। আমাদের তালিকায় ছিল পঙ্গু ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিন্নমূলেরা।" 

ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ফাউন্ডেশন এর এই কার্যক্রমের ফলে করোনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুঃস্থ মানুষদের মাঝে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। তারা জানায়, “লকডাউনের মাঝেও আমাদের এই ঈদ অনেক রঙিন ও আনন্দপূর্ণ হয়ে উঠবে।”।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ