Translate

খাবার কম দেওয়ার অভিযোগে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুর : পুলিশ মোতায়েন

অনলাইন ডেস্ক:

কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে ভাঙচুর চালিয়েছে বন্দিরা। শনিবার (১০ জুলাই) রাতে এ ভাঙচুর চালায় তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাসহ পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে রয়েছে।

শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে থাকা বন্দিদের অভিযোগ, কেন্দ্রে তাদের তিনবেলা ঠিকমতো খেতে দেওয়া হয় না। ভাত দেওয়া হয় হাফ প্লেট (অর্ধ প্লেট), রুটি দিলে দেয় এক পিস। তাছাড়া স্বজনরা এসে কেন্দ্রের সংশ্লিষ্টদের কাছে টাকা-পয়সা দিলেও সেগুলো মেরে দেওয়া হয়।

বন্দি রাকিব, সাব্বির, শাকিব প্রমুখ সেখানে উপস্থিত সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলে, কেন্দ্রে থাকা কর্মকর্তাদের পোষ্য কিছু বন্দিকে দিয়ে নিরীহদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে সাধারণ বন্দিরা ভাঙচুর চালিয়েছে।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, শনিবার রাত ১০টা থেকে কেন্দ্রের বিক্ষুব্ধ বন্দিরা ভাঙচুর শুরু করে। রাত ১২টার পরও সেখানে ভাঙচুরের শব্দ শোনা গেছে। কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল, ফ্যান, থালাবাটি ভেঙে ফেলা হয়েছে।

জানতে চাইলে যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রের (বালক) সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন বলেন, বন্দিদের পক্ষ থেকে যেসব অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে, তা ঠিক নয়। কেননা কেন্দ্রে তিনবেলায়ই ভাত দেওয়া হয়।

তবে কেন ভাঙচুর করছে- জবাবে তিনি বলেন, মূলত তারা চায়, সেখানে হাউজ সিনিয়র হিসেবে তাদের রাখা হোক। কিন্তু আগের এই প্র্যাকটিস (চর্চা) আমরা বন্ধ করে দিয়েছি। প্রতিনিয়ত আমরা তাদের খোঁজখবর নিয়ে থাকি। যদি হাউজ সিনিয়র হিসেবে কাউকে রাখা হয়, তাহলে তারা অন্যদের ওপর নির্যাতন করে। সেই ব্যবস্থা রহিত করায় মূলত হঠাৎ তারা ভাঙচুর করে।

এ পরিচালক বলেন, বন্দিরা দরজা, জানালা, টিভি, খাট, সিসিটিভিসহ আশপাশে যা কিছু পেয়েছে সবই ভেঙেছে। বাইরে ৫০/৬০ জন পুলিশ রয়েছে। কিন্তু এখনও (রাত পৌনে ১টা) কেন্দ্র অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, ৪/৫ মাস আগে টঙ্গী থেকে রাধা নামে এক বন্দি এখানে আসে। সেই মূলত এইসব অরাজকতা সৃষ্টি করছে।

এদিকে কেন্দ্রে ভাঙচুরের খবর পেয়ে সেখানে পুলিশের একাধিক টিম পৌঁছায়। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক সার্কেল) বেলাল হোসাইন, যশোর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তাজুল ইসলাম ঘটনাস্থলে রয়েছেন।

কোতোয়ালী থানার ওসি জানান, পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে চেষ্টা চালাচ্ছে। বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাঙচুরের ঘটনায় এখন পর্যন্ত হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

Source: Bangla Tribune 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ