Translate

কর্মহীন ১৪ নারীর সহায়তায় এগিয়ে এলো শিক্ষার্থীদের সংগঠন রাইজ ফর এ চেঞ্জ

শেখ মাজহারুল ইসলাম সোহানঃ

জন্মের পরেই বাবাকে হারিয়ে জীবন সংগ্রামে নিজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখা নিজের জীবনের গল্প ব্যাখা করতে থাকেন চট্টগ্রামের ফারহানা।দীর্ঘ সময় পাড়ি দিয়েছেন হাজারো ঘাত প্রতিঘাত। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বর্তমানে রাইজ ফর এ চেঞ্জ এর ‘প্রকল্প জয়িতার মাধ্যমে আজ তার কষ্ট অনেকাংশেই লাঘব হয়েছে।শুধু ফারহানা নয়,তার মতো বিভিন্ন বয়সের মোট ১৪ জন কর্মহীন নারীকে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন সংগঠনের সাথে সংশ্লিষ্ট স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে তৈরি সংগঠন রাইজ ফর এ চেঞ্জ।

" পরিবর্তনের জন্য উদয়ন"প্রতিপাদ্য কে সামনে রেখে নারীদের প্রতি হওয়া অসংগতিপূর্ণ ঘটনার মতো সমাজের অন্যান্য সমস্যাগুলো মোকাবেলা করতে অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটির সদস্যরা।

গত বছরের মহামারী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরুর সময় থেকেই বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট সংগঠনটি।

এর পর ধারাবাহিকভাবে একের পর এক সংগঠনের সেচ্ছাসেবীরা নিজে থেকেই বিভিন্নভাবে নির্যাতিত মানুষের পাশে আইনি সহযোগিতাসহ মানসিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে।

শুধু তাই বয় প্রজেক্ট জয়িতার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত নারীদের অর্থনৈতিক সাবলম্বনের জন্য তাদের সহযোগিতায় উন্নতির দিকে পৌঁছে গেছে কর্মহীন নারীরা।

এরই অংশ হিসেবে গত রমজান মাসে, সেচ্ছাসেবীদের পক্ষ থেকে তোলা চাঁদার ৩০% অর্থ দিয়ে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও পাবনার মোট ৭৪টি পরিবারের (৫-৭ জন সদস্যবিশিষ্ট) ১২-১৫ দিনের খাবার সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দেয়া হয়।

কিন্তু এই প্রজেক্টের মূল লক্ষ্য ছিল নারীর ক্ষমতায়ন। তাই বাকি ৭০% অর্থ দিয়ে যাচাইকৃত ১৪ জন জয়িতাকে সচ্ছলতার দিকে এগিয়ে যেতে সহায়তা করা হয়।কারো জন্য খামার গড়ে তোলা, তো কারো জন্য সেলাই মেশিনের ব্যবস্থা করে দেওয়া, আবার কারোর চোখের চিকিৎসার খরচে হাত বাড়িয়ে দেয় এই প্রজেক্ট। এমনকি প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ব্যবসার জন্যও প্রজেক্টের পক্ষ থেকে করা হয় সাহায্য। 

এ বিষয়ে রাইজ ফর এ চেঞ্জ এর প্রেসিডেন্ট মো. তাইমুম ইবনে সায়েদ বলেন, ‌‘এই প্রজেক্ট বড় পরিসরে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারলেও, অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাহায্য বা পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়াই প্রজেক্টটি এমন কিছু মানুষের কাছে আর্থিক ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে, যাদের প্রকৃত অর্থেই এমন সহায়তার প্রয়োজন ছিলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ