Translate

ফেনীতে শিশুকে ধর্ষণ অত:পর হত্যা : ধর্ষক গ্রেফতার

ফেনী সংবাদাতা: ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার ৫ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী মিফতাহুল মালিহা আফরাকে (৫) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আনোয়ার হোসেন স্বপন (৩৮) নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোববার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেয়া হয় তার।

গ্রেফতার স্বপন উপজেলার জায়লস্কর ইউনিয়নের নেয়াজপুর এলাকার মৃত কবির আহম্মদের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন সোহাগের চাচাতো ভাই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ‘আফরার সাথে বিকৃত যৌনাচারের পর হত্যার বিভৎস বর্ণনা দিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ধর্ষক স্বপন।’

জবানবন্দিতে স্বপন জানান, আফরা শ্রেণিকক্ষ থেকে পানি খেতে বের হলে স্বপন তাকে মুখ চেপে ধরে পাশের জঙ্গলে কড়ই গাছের নিচে নিয়ে যায়। চিৎকার করতে চাইলে তাকে টয়লেটের দেয়ালের সাথে আঘাত করে জখম করে। এ সময় তার ওপর পাশবিক নির্যাতন করা হয়। আফরা চিৎকার করে মাকে বলে দিতে চায়। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে স্বপন তার গলা চেপে ধরে নির্মমভাবে হত্যা করে। একপর্যায়ে গলায় গাছের মোটা লতা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে আফরাকে গাছের সাথে হেলান দিয়ে রেখে চলে যায়।

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান ইমাম জানান, ‘ঘটনার পরপরই স্বপনকে আটক করা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনায় সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়। এরপর তাকে জেল হাজতে প্রেরন করেছে আদালত।’

এদিকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে আফরার লাশ হস্তান্তর করা হয়। জানাযা শেষে তার লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। এসময় স্থানীয়রা স্বপনের ফাঁসি দাবি করেন।

উল্লেখ্য, শনিবার ক্লাসের সময় পানি খাওয়ার জন্য বেরিয়ে নিখোঁজ হয় আফরা। পরে অনেক খোঁজাখুজির পর স্কুলের পেছনে কবরস্থানের ঝোপে গাছের সাথে লতা পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া যায় আফরার নিথর দেহ। খবর পেয়ে পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সিআইডি, র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ