Translate

এলজিইডির কালো ধোঁয়ায় শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে শিশুরা


মো: আসাদুজ্জামান নাদিম, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার মাইজবাড়ি ইউনিয়নের ঢেকুরিয়া থেকে সোনামুখী ইউনিয়নের হরিনাথপুর পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়ক মেরামতের কাজ করছেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। এ কাজের পিচ এবং পাথর মিশ্রণের জন্য জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে পরানপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ।

বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কোন প্রকার অনুমতি ছাড়াই সেখানে সড়ক মেরামতের জিনিসপত্র রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক রুবেল আলম। তিনি বলেন, গত চারদিন ধরে বিদ্যালয়ের মাঠে মিশ্রণের দুইটা যন্ত্র বসিয়ে পাথর ও পিচ মিশ্রণ করা হচ্ছে। এতে ব্যাপক কালো ধোঁয়া ও ধুলোর সৃষ্টি হচ্ছে। এই কালো ধোঁয়া ও ধুলো-বালিতে একাকার বিদ্যালয়টি।

শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা এখনে টিকে থাকতেই পারছি না। কালো ধোঁয়া আর গন্ধে ঠিক মতো পড়াশোনাও করাতে পারছিনা। ক্লাশ করতে খুব কষ্ট হচ্ছে আমাদের। এই সমস্যাটি সমাধানে একটা ব্যবস্থা নেয়ার জন্যও দাবি জানান শিক্ষার্থীরা। 

বুধবার সকালে সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, বিদ্যালয়টির মাঠে পিচ ও নুড়িপাথর মিশ্রণ করা হচ্ছে দুটি মিশ্রণ যন্ত্র দিয়ে। যন্ত্রের উপর অংশের মোটা নল দিয়ে কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে। সেই কালো ধোঁয়া ও ধুলো বাতাসে ভেসে যাচ্ছে বিদ্যালয়ের দিকে। প্রবেশ করছে শ্রেণী কক্ষে। অন্য দিকে পিচ গলানোর কাজে পোড়ানো হচ্ছে ঝুট কাপড়। সেখানেও প্রচুর ধোঁয়া হচ্ছে। এতে করে ব্যাপক বায়ু দূষণের কবলে পড়েছে বিদ্যালয়টি। 

এ ব্যাপারে রাস্তা মেরামত কাজের ঠিকাদার লিটন মিয়া মোবাইল ফোনে বলেন, সরকারি কাজ করতে কারো অনুমতির দরকার হয় না। এ কাজে ধোঁয়া হবেই। আপনারা সাংবাদিক মানুষ, আপনাদের কোন সমস্যা থাকলে যা খুশি লিখতে পারেন। আমার কোন সমস্যা নাই। বলেই সংযোগ কেটে দেন তিনি। 


কাজীপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হাবিবুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের সমস্যায় ফেলে সড়কের কাজ করা যাবে না। ওখানে যে কাজ করা হচ্ছে এটা আমি জানি না। ইউএনও স্যার ও ইঞ্জিনিয়ার আছেন তাঁদের সাথে বসে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। 


কাজীপুর উপজেলা প্রকৌশলী জাকির হোসেন বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নিকট অনুমতি নেয়া না নেয়া ঠিকাদারের ব্যাপার। তাঁদের সাথে কথা বলেন। তাঁরা বলতে পারবে। তবে কাজ করলে ধোঁয়ার সৃষ্টি হবেই। একটু মেনে নিতে হবে। 


কাজীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী জানান, কোন প্রতিষ্ঠানের জায়গায় কাজ করতে হলে অবশ্যই অনুমতি নেয়ার বিধান রয়েছে। শিশুদের ঝুঁকিতে ফেলে কাজ করা যাবে না। প্রকৌশলী ও শিক্ষা অফিসারের সাথে বসে দ্রুতই সিদ্ধান্ত নেব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ