Translate

’কিশোর অপরাধ’ একটি অন্যতম সমস্য


প্রত্যুষ ইসলাম, শেরপুর :

বর্তমান সময়ে শিশু সমস্যর আলোচিত বিষয়গুলোর মধ্যে অন্যতম কিশোর অপরাধ । বাংলাদেশ ১৪ থেকে ১৮ বছর পর্যন্ত সকল মানব সন্তানকে কিশোর বলা হয়। এই সময়ের বেশিরভাগ কিশোর-কিশোরী মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিকে পড়াশোনা করে। বিভিন্ন গণমাধ্যম থেকে জানা যায় দুষ্ট বন্ধু, অপরাধিদের চক্র, খারাপ সঙ্গ ও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ সমস্ত ’কিশোর আপরাধের’ মূলে। বাংলাদেশে দিন দিন এই অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।

কিশোর গ্যাং, সঙ্গদোষ ও কিছু কুচক্রী মহলের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় কিশোর-কিশোরীরা গ্যাং কালচারের মাধ্যমে নানাবিধ কিশোর অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে । কোন কোন ক্ষেত্রে অসাধুমহলের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে তারা দলীয় কিংবা এককভাবে এই অপরাধ সংগঠিত করছে । 

স্বভাবতই আশেপাশের মানুষের দ্বারা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এ সকল শিশুরা ছোট ছোট অপরাধের মাধ্যমে এই বিশাল অপরাধ জগতে প্রবেশ করে । এক পর্যায়ে এদের অধিকাংশই মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। আর এই মাদক সেবনের ফলে তারা তাদের হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এখান থেকেই জন্ম হয় অপরাধ কর্মকাণ্ড । এরপর বিভিন্ন ধরনের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয় । বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তারা একটি গ্যাং তৈরি করে মারামারি-হানাহানি, চাঁদাবাজি, ইভিটিজিং সহ খুন, গুম, ধর্ষণের মত বিভিন্ন ধরনের লোমহর্ষক সন্ত্রাসি কর্মকাণ্ডও করে থাকে । 

কিশোর অপরাধ সমস্যার কারনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, প্রযুক্তির অপব্যবহার, সন্তানদের প্রতি বাবা-মা’র অবহেলা, বিবাহবিচ্ছেদ, পারিবারিক অশান্তি, কিশোর-কিশোরীদের প্রতি পরিবারের উপযুক্ত খেয়াল না রাখা, কাদের সাথে মিশছে কাদের সাথে মিশছে না সে বিষয়ে পরিবারের সম্পৃক্ততার অভাব, সন্তানদের চলাফেরা ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডকে সন্তানদের প্রতি অযত্ন অবহেলা, কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে বন্ধু নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত, খারাপ সঙ্গের সাথে মেশা ইত্যাদি।

কিশোর অপরাধের ফলে শুধু এই অপরাধী চক্রের সাথে জড়িত কিশোর-কিশোরীরাই নয় বরং সমাজের সকল স্তরের মানুষ প্রতিনিয়ত নানা সমস্যা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে ।  কোনো কোনো ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে এই কিশোর-কিশোরীরা শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনকে নানাভাবে বাধাগ্রস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত করছে । এই কিশোর অপরাধীরাই কিশোর-কিশোরীদের স্বাভাবিক জীবন-যাপনে নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাড়াচ্ছে। এসবের ফলে সাধারণ শিশুদের মানসিক অসুস্থতা দেখা যাচ্ছে।  কেউ কেউ আবার আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছে।

এই কিশোর অপরাধ দমনের জন্য কঠোর আইন প্রণয়নের চেয়ে এসব অপরাধ দমনে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহন করতে হবে । এবং এসব অপরাধের পেছনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা খুবই জরুরী। এছাড়াও, আইন প্রণয়নেরর পাশাপাশি পরিবারের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই কিশোর অপরাধ দমন করা সম্ভব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ